ভোটারদের আকর্ষণে বিজেপির প্রতিশ্রুতির পাল্টা তৃণমূলের দান ধ‍্যানে পদক্ষেপ

31st January 2021 9:27 pm বর্ধমান
ভোটারদের আকর্ষণে বিজেপির প্রতিশ্রুতির পাল্টা তৃণমূলের দান ধ‍্যানে পদক্ষেপ


প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় ( জামালপুর ) :দোরগোড়ায় এই রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন ।  ভোটারদের মন পেতে তাই এখন প্রতিশ্রুতির বন্য বইয়ে দিচ্ছেন রাজনৈতিক দলের নেতারা । সম্প্রতি পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষে অায়োজিত  জনসভা মঞ্চ থেকে সংসদ তথা রাজ্য বিজেপি যুব মোর্চার সভাপতি সৌমিত্র খাঁ ঘোষনা করেন ,’বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় আসলে  ছাত্রীদের ‘স্কুটি’দেওয়া হবে। পাশাপাশি  আরো অনেক কিছু রাজ্যবাসী পাবেন বলে সৌমিত্র  ওইদিন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ।’ তবে তৃণমূল নেতৃত্ব ভোট পাওয়ার জন্য মেকি প্রতিশ্রুতি দেওয়া ছেড়ে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে দান ধ্যান ও সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার পন্থা নিয়েছে ।আর তারই মধ্যথেকে প্রকৃত দাতা ও মৌখিক দাতা কারা তাঁদের চিহ্নিত করণের কাজ করে চলেছেন জনতা জনার্দন। 


জনগনের মন পেতে রবিবার জেলার জামালপুর বিধানসভা এলাকায়  তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সাত হাজারেরও বেশী দুঃস্থ মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হল শীতের কম্বল ।একই ভাবে তৃণমূলের পক্ষথেকে এদিন মেমারি পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের তিন শতাধীক দুঃস্থের হাতেও কম্বল  তুলে দেওয়া হয়  । কঠিন ঠান্ডায় শীত নিবারণের জন্য যারা কম্বল নিলেন  তারা ভোট কাকে দেবেন তা অবশ্য কারুরই জানা নেই ।যদিও  তৃণমূল নেতৃত্ব দাবি করেছেন মানুষের পাশে যারা থাকে জনগন তাদেরকেই ভোট দেয় । 


জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তথা ব্লক তৃণমূলের নেতা মেহেমুদ খান এই প্রসঙ্গে এদিন বলেন ,গত লোকসভা ভোটের সময়ে বিজেপি প্রত্যেকের এ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ।এছাড়াও  ঘরে ঘরে চাকরি দেবারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।  লোকসভা ভোট মিটে যাবার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গিয়েছে । কিন্তু জনগন কিছুই পান নি ।সেই কারণে এই পশ্চিমবঙ্গ  সহ গোটা দেশের মানুষ জেনে গিয়েছেন বিজেপি আশলে একটা ধাপ্পাবাজ দল ।  অন্যদিকে যুব তৃণমূল  কংগ্রেসের জামালপুর ব্লক সভাপতি ভূতনাথ মালিক এদিন দাবি করেন ,“শীত ,গ্রীষ্ম ,বর্ষা তৃণমূলই যে বাংলার জনগণের ভরসা সেটা বাংলার মানুষ খুব  ভালোকরেই জানেন। এটাও জনগন জানেন , তৃণমূল ভোটে জেতার জন্য মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয়না । বাংলার মুখ্যমন্ত্রী বাংলার উন্নয়নে যেমন জোয়ার এনেছেন তেমনই তৃণমূল কর্মীরা বাংলার জনগনের  ভালোর জন্য সারাবছর কাজ করে যাচ্ছে ।এইসবের জন্যই জামালপুর সহ গোটা রাজ্যের মানুষ ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই বাংলার মুখ্যমন্ত্রী করবেন । ” যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের এমন দাবি প্রসঙ্গে বিজেপির পূর্ব বর্ধমান জেলা সভাপতি সন্দিপ নন্দি বলেন ,“সর্বক্ষেত্রে গরিব মানুষের কাছথেকে কাটমানি কারা খায় তা বাংলার মানুষ ভালকরেই  জানেন । পায়খানা ঘরের টাকা থেকেও তৃণমূলের নেতারা কাটমানি খেতে ছাড়ে না । এবারের বিধানসভা ভোটে জামালপুরের পাশাপাশি গোটা বাংলার মানুষ কাটমানি খাওয়া তৃণমূলকে যে বাংলা ছাড়া করবে তা তৃণমূলের নেতারা ভালোই বুঝে গেছেন । তাই এখন তৃণমূল নেতারা দান ধ্যান করে ভোটারদের মন পতে চাইছে । তবে এইসব করে আর লাভ কিছু হবে না । সন্দিপ বাবুর দাবি  তৃণমূল সরকারের বিদায় সময়ের অপেক্ষা মাত্র । ”
  





Others News

MEMARI . একবছর আগে আবেদন করেও মেলেনি জাতিগত শংসাপত্র : হন‍্যে হয়ে ঘুরছেন মা

MEMARI . একবছর আগে আবেদন করেও মেলেনি জাতিগত শংসাপত্র : হন‍্যে হয়ে ঘুরছেন মা


প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় ( বর্ধমান ) : প্রায় এক বছর আগে আবেদন করেও মেয়ের জাতিগত শংসাপত্র মেলেনি । আবেদনকারীদের জাতি শংসাপত্র দেওয়ার
ক্ষেত্রে দেরি করা যাবেনা বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।কিন্তু বাস্তবে ঠিক তার উল্টোটাই ঘটে চলেছে।প্রায় এক বছর আগে  চতুর্থ শ্রেণীতে পাঠরত মেয়ের ওবিসি শংসাপত্র পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে  আবেদন করেছিলেন মা।কিন্তু মেয়ে কে পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তির সময় এগিয়ে আসলেও জাতি  শংসাপত্র আজও না মেলায় কার্যত হতাশ হয়ে পড়েছেন পূর্ব বর্ধমানের মেমারির রাধাকান্তপুর নিবাসী ঊর্মিলা দাস।ওবিসি শংসাপত্র পাবার জন্য ঊর্মিলাদেবী বৃহস্পতি বার মেমারি ১ ব্লক বিডিও অফিসে লিখিত ভাবে আবেদন জানিয়েছেন। শংসাপত্র পাবার জন্য বিডিও সাহেব কি ব্যবস্থা করেন সেদিকেই এখন তাকিয়ে ঊর্মিলাদেবী। 

বিডিওকে লিখিত আবেদনে ঊর্মিলাদেবী জানিয়েছেন ,তাঁর স্বামী মানিক দাস দৃষ্টিহীন প্রতিবন্ধী ।বছর ১০ বয়সী তাঁদের একমাত্র কন্যা গ্রামের বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণীতে পাঠরত কালে তাঁর ওবিসি শংসাপত্র পাবার জন্য তিনি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারী আবেদন করেছিলেন।  উর্মিলাদেবী বলেন ,তার পর থেকে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে  গেলেও তিনি তাঁর মেয়ের ওবিসি শংসাপত্র পান না।মেয়ের পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তির সময় এগিয়ে আসায় গত অক্টোবর মাসের শেষের দিকে তিনি শংসাপত্রের বিষয়ে মেমারি ১ ব্লকের বিডিও অফিসে খোঁজ নিতে যান।জাতি শংসাপত্র বিষয়ের বায়িত্বে থাকা বিডিও অফিসের আধিকারিক তাঁকে অনলাইনে এই সংক্রান্ত একটি নথি বের করে আনতে বলেন । অনলাইনে সেই নথি বের করেনিয়ে তিনি ফের ওই আধিকারিকের কাছে যান । তা দেখার পর ওই আধিকারিক তাঁকে  ২০ দিন বাদে আসতে বলেন । ঊর্মিলাদেবী বলেন , তিনি ২৫ দিন বাদে যাবার পর ওই আধিকারিক তাঁকে গোপগন্তার ২ গ্রাম পঞ্চায়েতে গিয়ে খোঁজ নেবার কথা বলেন । তিনি এরপর গ্রামপঞ্চায়েত অফিসে খোঁজ নিতে যান । নথি ঘেঁটে পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয় তাঁর মেয়ের নামে কোন ওবিসি শংসাপত্র পঞ্চায়েতে আসে নি।ঊর্মিলাদেবী দাবী করেন ,এই ভাবে তিনি একবার বিডিও অফিস , আবার পঞ্চায়েত অফিসে দরবার করে চলেন । কিন্তু তাতে কাজের কাজ কিছু হয় না। মেয়ের ওবিসি শংসাপত্র পাবার জন্য  গত ১৩ ডিসেম্বর ফের তিনি বিডিও অফিসে যান ।ওই দিনও বিডিও অফিসের জাতি শংসাপত্র বিষয়ক বিভাগের আধিকারিক তাঁকে একই ভাবে পঞ্চায়েত অফিসে খোঁজ নিতে যেতে বলে দায় সারেন। পরদিন তিনি পঞ্চায়েত অফিসে খোঁজ নিতে গেলে পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ ফের জানিয়ে দেয় তাঁর মেয়ের নামে  ওবিসি শংসাপত্র পঞ্চায়েতে আসে নি । কেন মেয়ের জাতি শংসাপত্র পাচ্ছেন না সেই বিষয়ে  না পঞ্চায়েত না ব্লক প্রশাসনের কর্তৃপক্ষ কেউই তাঁকে কিছু জানাতে পারেন । ঊর্মিলাদেবী বলেন ,পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তির আগে তার মেয়ে যাতে ওবিসি শংসাপত্র পেয়ে যায় তার ব্যবস্থা করার জন্য এদিন তিনি বিডিওর কাছে লিখিত ভাবে আবেদন জানিয়েছেন । মেমারী ১ ব্লকের বিডিও আলী মহম্মদ ওলি উল্লাহ এদিন বলেন ,“জাতি শংসাপত্র পাবার জন্য হাজার হাজার আবেদন জমা পড়ছে । তবে ঊর্মিলাদেবীর কন্যা দ্রুত যাতে বিবিসি শংসাপত্র দ্রুথ পান সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে “। মেমারির বিধায়ক মধুসূদন ভট্টাচার্য্য বলেন,’মেমারি  বিধানসভা এলাকার আবেদনকারীরা দ্রুত যাতে জাতি শংসাপত্র পান সেই বিষয়ে প্রশাসনকে আরও তৎপর হওয়ার কথা বলবো’।